Windows 10 ও Windows 11 Factory Reset করার সম্পূর্ণ গাইড (২০২৬) | Keep My Files নাকি Remove Everything?
বছরের পর বছর ব্যবহারের ফলে Windows কম্পিউটারে জাঙ্ক ফাইল, ব্রোকেন রেজিস্ট্রি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস জমতে থাকে। ফলস্বরূপ—পিসি স্লো হওয়া, সফটওয়্যার ক্র্যাশ করা বা বারবার Blue Screen of Death (BSOD)-এর মতো বিরক্তিকর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেকেই এ ধরনের সমস্যায় সরাসরি পেনড্রাইভ দিয়ে নতুন করে Windows ইনস্টল করার কথা ভাবেন, যা বেশ ঝামেলার।
অথচ Windows 10 এবং Windows 11-এ থাকা 'Reset this PC' ফিচারটি ব্যবহার করে কোনো এক্সটার্নাল মিডিয়া ছাড়াই পুরো সিস্টেমকে ফ্যাক্টরি কন্ডিশনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ব্যক্তিগত ফাইল রেখে বা সবকিছু সম্পূর্ণ মুছে—দুইভাবেই এই কাজটি করা যায়। তবে সঠিক অপশনটি বেছে না নিলে ডেটা হারানোর বড় ঝুঁকি থাকে।
কখন Factory Reset করা সত্যিই জরুরি?
ছোটখাটো সমস্যার জন্য রিসেট করার প্রয়োজন নেই। তবে নিচের পরিস্থিতিগুলোতে এটি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান:
- অস্বাভাবিক ধীরগতি: স্টার্টআপে অনেক সময় লাগা বা 100% Disk/CPU Usage সমস্যা কোনোভাবেই সমাধান না হলে।
- সিস্টেম করাপশন: Windows Update বারবার ফেইল করলে বা গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম ফাইল (যেমন: DLL) মিসিং থাকলে।
- ম্যালওয়্যার বা র্যানসমওয়্যার অ্যাটাক: সাধারণ অ্যান্টিভাইরাস দিয়ে ভাইরাসের রুট ফাইল রিমুভ করা সম্ভব না হলে।
- পিসি বিক্রি বা হস্তান্তর: অন্য কাউকে পিসি দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত সব ডেটা এবং অ্যাকাউন্ট ইনফরমেশন চিরতরে মুছে ফেলতে।
রিসেট শুরু করার আগে এই ৫টি কাজ না করলেই নয়
- লোকাল ড্রাইভ ব্যাকআপ: 'Keep my files' অপশন নির্বাচন করলেও C Drive (Desktop, Documents, Downloads)-এর বাইরের কোনো ফোল্ডার বা সফটওয়্যারের ডেটা রাখা হবে না। তাই জরুরি ফাইল এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক বা ক্লাউডে (Google Drive/OneDrive) সরিয়ে নিন।
- BitLocker Recovery Key সংগ্রহ: আধুনিক ল্যাপটপগুলোতে (বিশেষ করে Windows 11) ডিফল্টভাবে BitLocker এনক্রিপশন চালু থাকে। রিসেটের পর পিসি চালু হতে এই 48-ডিজিটের রিকভারি কী চাইতে পারে। Microsoft অ্যাকাউন্টে লগইন করে আগে এটি সেভ করে রাখুন।
- পাওয়ার ব্যাকআপ: ডেস্কটপ হলে ইউপিএস (UPS) এবং ল্যাপটপ হলে অবশ্যই চার্জার কানেক্ট করে নিন। রিসেট চলাকালীন পাওয়ার কাট হলে পুরো ওএস ক্র্যাশ করে পিসি 'Bricked' বা অকেজো হয়ে যেতে পারে।
- সফটওয়্যার লাইসেন্স: প্রিমিয়াম সফটওয়্যার (Microsoft Office, Adobe) এবং উইন্ডোজের অরিজিনাল প্রডাক্ট কী অন্য কোথাও লিখে রাখুন।
- নেটওয়ার্ক ড্রাইভার: রিসেটের পর অনেক সময় ওয়াইফাই ড্রাইভার অটো-ইনস্টল হয় না। তাই মাদারবোর্ড বা ল্যাপটপের মডেল অনুযায়ী ল্যান বা ওয়াইফাই ড্রাইভারটি আগে থেকেই ডাউনলোড করে রাখুন।
Keep My Files নাকি Remove Everything: কোনটি বাছবেন?
রিসেট শুরু করার প্রথম ধাপেই Windows আপনাকে দুটি অপশন দেবে। আপনার প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সঠিকটি বেছে নেওয়া জরুরি.
Keep My Files (পার্সোনাল ফাইল থাকবে)
এই অপশনটি শুধুমাত্র Windows-এর কোর ফাইলগুলোকে রিফ্রেশ করে। আপনার ইউজার ফোল্ডারে থাকা ছবি, ভিডিও বা ডকুমেন্ট অক্ষত থাকবে। তবে ইনস্টল করা সমস্ত থার্ড-পার্টি সফটওয়্যার (যেমন: Chrome, গেমস) এবং কাস্টম সেটিংস মুছে যাবে। পিসির পারফরম্যান্স ফেরাতে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় অপশন।
Remove Everything (সবকিছু ডিলিট হবে)
পিসি বিক্রি করা বা মারাত্মক ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করুন। এটি অনেকটা হার্ড ড্রাইভ ফরম্যাট করার মতো কাজ করে। এটি নির্বাচন করলে Windows একেবারে ফ্রেশ অবস্থায় ফিরে যাবে।
Local Reinstall বনাম Cloud Download: টেকনিক্যাল পার্থক্য
- Local Reinstall: এটি আপনার পিসিতে থাকা বর্তমান Windows ফাইলগুলো থেকেই সিস্টেমকে রিবিল্ড করে। এতে ইন্টারনেট লাগে না এবং সময় কম লাগে। কিন্তু যদি আপনার বর্তমান সিস্টেমে আগে থেকেই কোনো বড় করাপশন থাকে, তবে এই অপশনটি কাজ নাও করতে পারে।
- Cloud Download: এটি মাইক্রোসফটের সার্ভার থেকে সরাসরি Windows-এর লেটেস্ট ও ফ্রেশ কপি (প্রায় ৪ গিগাবাইট) ডাউনলোড করে ইনস্টল করে। এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং 'ক্লিন ইনস্টলেশন'-এর অনুভূতি দেয়। ব্রডব্যান্ড কানেকশন থাকলে এটি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
Windows 10 ও 11 Factory Reset করার প্র্যাকটিক্যাল ধাপ
প্রস্তুতি শেষ হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে রিসেট প্রক্রিয়া শুরু করুন (উভয় ভার্সনের জন্যই প্রক্রিয়াটি প্রায় অভিন্ন):
- Start মেনু থেকে Settings ওপেন করুন।
- Windows 10 ব্যবহারকারীরা Update & Security → Recovery-তে যান। Windows 11-এ System → Recovery-তে ক্লিক করুন।
- 'Reset this PC' সেকশনের ডানদিকে থাকা Reset PC (বা Get Started) বাটনে ক্লিক করুন।
- আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী Keep my files অথবা Remove everything নির্বাচন করুন।
- ইন্টারনেটের গতি ভালো থাকলে Cloud download বেছে নিন, অন্যথায় Local reinstall-এ ক্লিক করুন।
- (গুরুত্বপূর্ণ) আপনি যদি 'Remove everything' বেছে নিয়ে থাকেন, তবে পরবর্তী স্ক্রিনে Change settings-এ ক্লিক করে নিশ্চিত করুন যে Data erasure চালু আছে এবং ড্রাইভ হিসেবে Only the drive where Windows is installed সিলেক্ট করা আছে। 'All drives' সিলেক্ট করলে আপনার ডি বা ই ড্রাইভের ডেটাও চিরতরে মুছে যাবে।
- Next-এ ক্লিক করে কনফার্মেশন স্ক্রিনের তথ্যগুলো পড়ে নিন।
- সবশেষে Reset বাটনে ক্লিক করুন।
এরপর পিসি অটোমেটিক রিস্টার্ট হবে। প্রসেসটি শেষ হতে স্টোরেজের ধরন (SSD/HDD) ভেদে ২০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময় স্ক্রিনে প্রগ্রেস পার্সেন্টেজ দেখা যাবে।
অ্যাডভান্সড মেথড: কমান্ড প্রম্পট (CMD) দিয়ে রিসেট
অনেক সময় ভাইরাসের কারণে বা সিস্টেম এররের ফলে Settings প্যানেল ওপেন হয় না। সে ক্ষেত্রে কমান্ড লাইন ব্যবহার করে সরাসরি রিসেট উইন্ডো আনা যায়:
systemreset -factoryreset
স্টার্ট মেনুতে CMD লিখে Run as administrator-এ ক্লিক করুন। উপরের কমান্ডটি পেস্ট করে Enter চাপলেই সরাসরি Reset-এর অপশন চলে আসবে।
রিসেট সম্পন্ন হওয়ার পরের চেকলিস্ট
উইন্ডোজের প্রাথমিক সেটআপ (OOBE) শেষ করে ডেস্কটপে আসার পর পিসি পুরোপুরি রেডি করতে এই কাজগুলো করুন:
- Windows Update: সাথে সাথেই Settings থেকে Windows Update চেক করুন এবং পেন্ডিং থাকা সব প্যাচ ইনস্টল করে পিসি রিস্টার্ট দিন।
- ড্রাইভার ভেরিফিকেশন: Start-এ রাইট ক্লিক করে Device Manager ওপেন করুন। কোনো ডিভাইসের পাশে হলুদ সতর্কচিহ্ন থাকলে সেগুলোর ড্রাইভার ম্যানুয়ালি আপডেট করুন।
- Windows Security: বিল্ট-ইন অ্যান্টিভাইরাসটি আপডেট করে একটি 'Quick Scan' রান করুন।
প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. রিসেট করলে কি আমার লাইসেন্স করা Windows অ্যাক্টিভেশন চলে যাবে?
না। যদি আপনার উইন্ডোজ ল্যাপটপের সাথে প্রি-ইনস্টলড আসে (OEM) অথবা মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সাথে ডিজিটাল লাইসেন্স লিংক করা থাকে, তবে ইন্টারনেট কানেক্ট করার সাথে সাথেই উইন্ডোজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাক্টিভেটেড হয়ে যাবে।
২. পিসি হ্যাং হয়ে লগইন স্ক্রিনেই আটকে থাকলে কীভাবে রিসেট করব?
লগইন স্ক্রিন থেকে ডানদিকের নিচের পাওয়ার আইকনে ক্লিক করুন। এবার কিবোর্ডের Shift বাটন চেপে ধরে Restart-এ ক্লিক করুন। পিসি Advanced Startup মেনুতে বুট হবে। সেখান থেকে Troubleshoot → Reset this PC অপশনটি ব্যবহার করতে পারবেন।
৩. ৯৯% এ এসে যদি রিসেট আটকে যায়, তখন করণীয় কী?
মাঝেমধ্যে হার্ডডিস্ক স্লো হলে বা বড় কোনো সিস্টেম ফাইল রিবিল্ড হতে সময় লাগলে এটি হতে পারে। অন্তত ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপরও কাজ না হলে পাওয়ার বাটন চেপে ধরে পিসি অফ করে আবার অন করুন। উইন্ডোজ রোলব্যাক করে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করবে।

Leave a Comment
Sign in with an allowed account, write your comment and publish it here.